কোমলপানীয় থেকে সাবধান:
ঈদ, পূজা-পার্বণ, বন্ধুদের আড্ডাসহ যেকোনো উৎসবে আনন্দে কোক-পেপসি না থাকলে যেন জমেই না। এমন উৎসবে কেউ কেউ একাধিক বোতল পানীয় একাই সাবাড় করে দেয়। অনেকের আবার দৈনিক একটু কোমল পানীয় না হলে চলেই না। কিন্তু এ ধরনের পানীয় পানে তাৎক্ষণিক স্বাস্তিবোধ হলেও এতে থাকে অনেক ক্ষতিকর উপাদান। এ কারণেই চিকিৎসকরা কোক-পেপসি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কোমল পানীয় পান ওজন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষকরা ১০ বছর গবেষণা করে খুঁজে পেয়েছেন, যারা কোমল পানীয় পান করেন, তাদের কোমরের পরিধি অন্যদের চেয়ে ৭৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। যিনি দিনে দুইবার পান করেন তার কোমরের পরিধি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে ওজন বেড়ে যায়। এছাড়া যকৃতে বেশি পরিমাণ গ্লুকোজ জমা হয় যা শরীরকে অতিরিক্ত মেদবহূল করে ফেলে।কোমল পানীয়র আঠালো রঙ ২ এবং ৪ মিথিলাইমিডাজল যা প্রাণীদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করে। যেখানে ১৫ মাইক্রোগ্রাম মিথিলইমিডাজল প্রতিদিন গ্রহণ ক্যানসারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে অধিকাংশ জনপ্রিয় কোমল পানীয়তে প্রতি ২০ আউন্সে এ রাসায়নিক রয়েছে ১৯৯ মাইক্রোগ্রাম।
এছাড়া বিসফেনল সম্পর্কেও সাবধান থাকা জরুরি। এই রাসায়নিক প্লাস্টিকের বোতলে থাকে। যার ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘদিন পর শরীরে কাজ করে। এটি হরমোনের জন্য ক্ষতিকর। যা হরমোনের বন্ধ্যাত্ব এবং স্থূলতা সৃষ্টি করে। আর আপনার পছন্দের কোমল পানীয় নিশ্চিত করে এসব রোগ।
কোমল পানীয়র কিছু উপাদান উচ্চমাত্রার শর্করাসমৃদ্ধ। আর এসব সংগ্রহ করা হয় ভুট্টা থেকে। আর উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে এখন ভুট্টার জিনগত পরিবর্তন সাধন করা হচ্ছে। যাকে বলা হয় GMO। আর এ GMO শস্য জন্মগতভাবে শিশুর ক্ষতি করে।
কোমলপানীয়র আরো অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। দাঁত বিশেষজ্ঞরা বলেন, চিনি ও অম্লের কারণে পেপসি দাঁতের জন্য ভয়ঙ্কর।
পেপসিতে বিষাক্ত কীটনাশক রয়েছে যা উচ্চমাত্রার ক্যানসার তৈরির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া স্নায়ু ও প্রজননের জন্যও এটি ক্ষতিকর।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পুষ্টিবিদ জাহানারা আক্তার সুমি বাংলামেইলকে বলেন, ‘কোমল পানীয়তে কৃত্রিম জিনিস ব্যবহারের ফলে মানুষের দেহের ওজন বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডায়াবেটিস হয়। এছাড়া কোমল পানীয়র ফসফেটের কারণে ক্যালসিয়ামের লেভেল কমে যায়। ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়। হাড়ের ক্ষয় বেড়ে যায়। শিশুরা দুধ খেতে চায় না। কিছু কিছু কোমল পানীয়তে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল থাকে যা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন